বাংলাদেশে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স

আপডেট করা হয়েছে: ১৭ মার্চ, ২০২৬

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (PCC) হলো বাংলাদেশ পুলিশ কর্তৃক ইস্যুকৃত একটি ডকুমেন্ট যা নিশ্চিত করে যে ওই ব্যক্তির বাংলাদেশে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড আছে কি না। এই সার্টিফিকেট ভিসা আবেদন, চাকরি, ইমিগ্রেশন, উচ্চশিক্ষা এবং অন্যান্য অফিসিয়াল কাজে ব্যবহৃত হয়।

যাদের জন্য তথ্য:

চাকরিপ্রার্থী ভিসা আবেদনকারী শিক্ষার্থী প্রবাসী কর্মী
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের প্রিভিউ
Photo by NZMUL from Scribd

প্রক্রিয়াকরণের সময়

৭-১৫ কার্যদিবস

বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা

আন্তর্জাতিক বৈধতা

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট কী?

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট হলো এমন একটি নথি যা বাংলাদেশে কোনো ব্যক্তির অপরাধমূলক রেকর্ডের অবস্থা নিশ্চিত করে।

সার্টিফিকেটটি নিশ্চিত করে:
  • আবেদনকারীর নামে কোনো নিবন্ধিত অপরাধমূলক মামলা নেই, অথবা
  • সার্টিফিকেট দেওয়ার সময় পুলিশ ডেটাবেসে কোনো বিচারাধীন মামলা নেই।

এই পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট আন্তর্জাতিকভাবে যাচাইকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়। বিদেশি দূতাবাস, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ এবং নিয়োগকর্তারা ভিসা প্রদান বা চাকরির আগে ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করতে এই ডকুমেন্টটি দাবি করেন।

সার্টিফিকেটটিতে যা থাকে:

পূর্ণ নাম
পাসপোর্ট নম্বর
জন্ম তারিখ
ঠিকানা
প্রদানের উদ্দেশ্য
ডিজিটাল অথরাইজেশন

কেন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট নিম্নোক্ত ক্ষেত্রগুলোতে প্রয়োজন হয়:

স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন
বিদেশে কাজের অনুমতি
ইমিগ্রেশন এবং স্থায়ী বসবাস (PR)
সরকারি বা বেসরকারি খাতের চাকরি
পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন
দূতাবাসে নথি জমা
বিদেশি দূতাবাসগুলো সাধারণত ভিসা ইস্যু করার আগে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট দাবি করে।

ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষ এবং আইনি কাঠামো

বাংলাদেশে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট বাংলাদেশ পুলিশ দ্বারা ইস্যু করা হয়, যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়।

আবেদনগুলো যেভাবে প্রক্রিয়াকরণ করা হয়:

  • অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সিস্টেম
  • ভেরিফিকেশনের জন্য স্থানীয় থানা
  • বাংলাদেশ পুলিশের প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে একটি অনুমোদন প্রক্রিয়া
যদিও প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল, ভেরিফিকেশন আবেদনকারীর বর্তমান বা স্থায়ী ঠিকানার ভিত্তিতে স্থানীয় থানার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়।

এই সার্টিফিকেটটি যাদের দ্বারা স্বীকৃত:

বিদেশী দূতাবাস
অভিবাসন কর্তৃপক্ষ
আন্তর্জাতিক নিয়োগকর্তা
বিদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
এটি আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স প্রয়োজনীয়তার জন্য একটি অফিসিয়াল ব্যাকগ্রাউন্ড নিশ্চিতকরণ নথি হিসেবে কাজ করে।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বনাম চারিত্রিক সনদ

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট এবং চারিত্রিক সনদ সম্পূর্ণ আলাদা।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট:

  • এটি বাংলাদেশ পুলিশ দ্বারা ইস্যু করা হয়
  • অপরাধমূলক রেকর্ডের অবস্থা নিশ্চিত করে
  • প্রধানত আন্তর্জাতিক কাজে ব্যবহৃত হয়

চারিত্রিক সনদ:

  • স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠান দ্বারা ইস্যু করা হতে পারে
  • সাধারণ আচরণ ও স্বভাব নিশ্চিত করে
  • প্রায়শই স্থানীয় কাজে ব্যবহৃত হয়

গুরুত্বপূর্ণ নোট

ভিসা বা ইমিগ্রেশন আবেদনের ক্ষেত্রে এই দুটি ডকুমেন্ট পরস্পর পরিবর্তনযোগ্য নয়

বাংলাদেশে কাদের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন?

বিভিন্ন শ্রেণির আবেদনকারীদের জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়।

সরকারি বা বেসরকারি খাতের চাকরি

দেশি এবং আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রে কিছু সংবেদনশীল পদের জন্য ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশনের প্রয়োজন হতে পারে।

streams

ইমিগ্রেশন এবং স্থায়ী বসবাস (PR)

কানাডা, অস্ট্রেলিয়া বা ইউরোপীয় দেশগুলোর মতো দেশগুলোতে ইমিগ্রেশন বা স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের অংশ হিসেবে অবশ্যই একটি সাম্প্রতিক বাংলাদেশ পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে।

প্রবাসী কর্মসংস্থান

অনেক বিদেশি নিয়োগকর্তা চাকরির অফার দেওয়ার আগে অপরাধমূলক ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করতে বাংলাদেশ পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দাবি করেন।

বিদেশে উচ্চশিক্ষা

কিছু দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি বা ভিসা প্রসেসিংয়ের সময় বাংলাদেশ পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হয়।

ভিসা আবেদন

বেশিরভাগ বিদেশি দূতাবাস দীর্ঘমেয়াদী ভিসা ইস্যু করার আগে একটি বৈধ পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট দাবি করে, যেমন:

স্টুডেন্ট ভিসা
ওয়ার্ক ভিসা
ডিপেন্ডেন্ট ভিসা
রেসিডেন্সি পারমিট

বাংলাদেশে কারা পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন?

বাংলাদেশি নাগরিক

বৈধ পাসপোর্টধারী যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করতে পারেন।

আপনার পাসপোর্ট আবেদনের প্রধান পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করবে।

প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিক

আপনি বাংলাদেশের বাইরে থাকলেও অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। অনেক ক্ষেত্রে:

  • আপনার পাসপোর্টের কপি অবশ্যই বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাই কমিশন দ্বারা সত্যায়িত হতে হবে।
  • আপনি সার্টিফিকেট সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশে একজন প্রতিনিধি মনোনীত করতে পারেন।

বিদেশি নাগরিক

বাংলাদেশে ইতিপূর্বে বসবাস করেছেন এমন বিদেশি নাগরিকরাও তাঁদের নিজ দেশের ইমিগ্রেশন বা আইনি প্রয়োজনে বাংলাদেশ পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন।

বাংলাদেশে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য আবেদন করার নিয়ম

সবচেয়ে আদর্শ পদ্ধতি হলো অফিসিয়াল অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেমের মাধ্যমে আবেদন করা।

ধাপে ধাপে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স অনলাইন আবেদন পদ্ধতি

আবেদন করার পর্যায়গুলো নিচে দেওয়া হলো:

1

ধাপ ১: পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পোর্টাল ভিজিট করুন

বাংলাদেশ পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পোর্টালে গিয়ে আপনার আবেদন শুরু করুন।

ভিজিট করুন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পোর্টাল
2

ধাপ ২: রেজিস্ট্রেশন

আপনার মোবাইল নম্বর এবং ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।

অনলাইন রেজিস্ট্রেশন
3

ধাপ ৩: আবেদন ফর্মটি পূরণ করুন

আবেদন ফর্মে প্রয়োজনীয় সব তথ্য প্রদান করুন:

  • পূর্ণ নাম (পাসপোর্ট অনুযায়ী)
  • পাসপোর্ট নম্বর
  • বর্তমান ঠিকানা
  • স্থায়ী ঠিকানা
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের কারণ
সব তথ্য অবশ্যই আপনার পাসপোর্টের সাথে মিলতে হবে।
Complete the online application form
4

ধাপ ৪: প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করুন

প্রয়োজনীয় নথিপত্রের স্ক্যান কপি আপলোড করুন।

নথি আপলোড করুন
5

ধাপ ৫: ফি জমা দিন

অনুমোদিত ব্যাংকিং চ্যানেল অথবা অনলাইনের মাধ্যমে ফি জমা দিতে পারবেন।

ফি জমা দিন
6

ধাপ ৬: সাবমিশন এবং ভেরিফিকেশন

আবেদন সম্পন্ন করার পর:

  • আপনার তথ্য সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হবে।
  • ঠিকানার ভেরিফিকেশন করা হতে পারে।
  • প্রয়োজনে আপনাকে কল করা হতে পারে।
Submission and verification
7

ধাপ ৭: অনুমোদন এবং ইস্যু

ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলে আপনার সার্টিফিকেট অনুমোদিত এবং ইস্যু করা হয়।

সাধারণত পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়াকরণে ৭–১৫ কার্যদিবস সময় লাগে, যা ভেরিফিকেশনের ওপর ভিত্তি করে কম-বেশি হতে পারে।
Approval & Issuance

পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র

সঠিক নথিপত্র প্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নথিপত্রের ভুলের কারণে অনেক সময় আবেদন বাতিল হতে পারে।

বাধ্যতামূলক নথিপত্র

  • বৈধ পাসপোর্ট (বায়ো পেজ কপি)
  • পাসপোর্টের তথ্য পাতার পরিষ্কার কপি
  • বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণ (প্রয়োজনে)
  • ট্রেজারি চালান বা পেমেন্ট রশিদ

প্রবাসী আবেদনকারীদের জন্য

  • সদস্য দেশগুলোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে সত্যায়িত পাসপোর্টের কপি
  • অথরাইজেশন লেটার (যদি আপনার হয়ে অন্য কেউ সংগ্রহ করে)
ঠিকানা সংক্রান্ত তথ্য অবশ্যই রেকর্ডের সাথে মিল থাকতে হবে।

বিস্তারিত জানতে, বাংলাদেশে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংক্রান্ত আমাদের গাইডটি দেখুন।

বাংলাদেশে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ফি

বাংলাদেশে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ফি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।

পেমেন্ট মাধ্যম:

  • ট্রেজারি চালান
  • অনলাইন ব্যাংকিং সিস্টেম
  • অনুমোদিত পেমেন্ট গেটওয়ে

ফি জমা দেওয়ার আগে:

  • সঠিক চালান কোড নিশ্চিত করুন
  • আপনার নামের বানান সঠিক কি না দেখে নিন
  • পেমেন্টের রশিদের একটি ডিজিটাল কপি সাথে রাখুন
পেমেন্ট সংক্রান্ত ভুলের কারণে প্রসেসিংয়ে বিলম্ব হতে পারে।

পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া

পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের আবেদন অনলাইনে সাবমিট করার পর:

1

সিস্টেমটি আপনার আবেদনটি সংশ্লিষ্ট স্থানীয় থানায় পাঠিয়ে দেয়।

2

দায়িত্বরত কর্মকর্তারা আপনার জমা দেওয়া তথ্য এবং নথিপত্র যাচাই করেন।

streams
3

শারীরিকভাবে বা ডাটাবেস চেক করার মাধ্যমে আপনার ঠিকানার ভেরিফিকেশন করা হতে পারে।

streams
4

প্রয়োজনে বিস্তারিত তথ্যের জন্য আপনি ফোন কল পেতে পারেন।

streams
5

ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলে ডিজিটাল মাধ্যমে অনুমোদন প্রদান করা হয়।

streams

ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়।

কঠোর ভেরিফিকেশন ভুল ব্যবহার রোধ করে এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করে।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের মেয়াদ এবং প্রক্রিয়াকরণের সময়সীমা

মেয়াদের সময়সীমা

পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের মেয়াদ

সার্টিফিকেটের মেয়াদ:

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে:
  • বাংলাদেশে একটি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের মেয়াদ সাধারণত ৬ মাস থাকে।
  • তবে, দূতাবাস এবং ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ অনেক সময় সর্বশেষ ৩ মাসের মধ্যে ইস্যু করা সার্টিফিকেট দাবি করতে পারে।
সবসময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মেয়াদের প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত হয়ে নিন।
আপনার সার্টিফিকেটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে আপনাকে পুনরায় আবেদন করতে হবে।

প্রক্রিয়াকরণের সময়

প্রক্রিয়াকরণের সময় এবং ভেরিফিকেশন

সাধারণ সময়সীমা:

৭–১৫ দিন
গড় সময়সীমা
সময় বৃদ্ধি
কাজের চাপ বেশি থাকলে
সময়সীমার ওপর প্রভাব বিস্তারকারী কারণসমূহ:
  • ঠিকানার অমিল
  • অসম্পূর্ণ তথ্য
  • পেমেন্ট সংক্রান্ত সমস্যা
  • ম্যানুয়াল চেক
পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় স্থানীয় থানার মাধ্যমে আপনার ঠিকানার সরাসরি তথ্য যাচাই করা হতে পারে।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট রিনিউ বা নবায়ন

বাংলাদেশে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট স্থায়ী নয়। অনেক ক্ষেত্রে, আপনার আগের ইস্যু করা সার্টিফিকেটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ না করলে আপনাকে নতুন একটি সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হতে পারে। এই প্রয়োজনীয়তার কারণে আবেদনকারীদের প্রায়ই রিনিউ বা পুনরায় আবেদন করার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

কখন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স রিনিউ করা প্রয়োজন

নিচের পরিস্থিতিগুলোতে আপনি রিনিউ বা পুনরায় আবেদনের প্রয়োজন হতে পারে:

  • আপনার আগের সার্টিফিকেটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে
  • দূতাবাস যদি আরও সাম্প্রতিক কোনো সার্টিফিকেট দাবি করে
  • আপনার ভিসা বা ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া এখনও চলমান থাকলে
  • ভিন্ন কোনো দেশ বা উদ্দেশ্যে নতুন সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হলে
বাংলাদেশে রিনিউ বলতে সাধারণত পূর্বের সার্টিফিকেট সংশোধন না করে বরং অফিসিয়াল সিস্টেমের মাধ্যমে একদম নতুন করে আবেদন করা বোঝায়।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স রিনিউ করার পদ্ধতি

রিনিউ করার প্রক্রিয়াটি সাধারণত প্রথমবার আবেদন করার পদ্ধতির মতোই। আবেদনকারীকে নতুন করে আবেদন সাবমিট করতে হয় এবং ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হয়।

নতুন অনলাইন আবেদন সাবমিট করা
প্রয়োজনীয় নথিপত্র পুনরায় আপলোড করা
নির্ধারিত পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ফি জমা দেওয়া
পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা
নতুন ইস্যু করা সার্টিফিকেট গ্রহণ করা
তথ্যগুলো সঠিক এবং আপ-টু-ডেট রাখার জন্য প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে রিভিউ করা হয়।

রিনিউ করার আগে যা জানা জরুরি

রিনিউ করার আবেদনের আগে নিচের বিষয়গুলো মনে রাখা প্রয়োজন:

  • আগের সার্টিফিকেট সাধারণত বাড়ানো বা পরিবর্তন করা যায় না
  • সাধারণত নতুন করে আবেদনের প্রয়োজন হয়
  • সার্টিফিকেটের মেয়াদ দূতাবাস বা ইমিগ্রেশন প্রয়োজনীয়তার ওপর নির্ভর করে
  • সব তথ্য অবশ্যই পাসপোর্টের তথ্যের সাথে হুবহু মিলতে হবে
সঠিক নথিপত্র এবং সঠিক ঠিকানা প্রদান করলে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় দেরি হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

আমাদের বিস্তারিত গাইডটি পড়ুন: বাংলাদেশে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স রিনিউ বা নবায়ন

How to check police clearance status online

After submitting your application, you can track it through the official portal.

To check status:

Follow these steps on the official tracking portal.

Required steps:

Status updates typically show:

Standard application stages:

  • Submitted
  • Under Verification
  • Approved
  • Rejected
If rejected, the reason is usually mentioned in the portal.

সাধারণ সমস্যা এবং সমাধান

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়ার সময় উদ্ভূত সাধারণ সমস্যাগুলো সমাধান করুন।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়া

সাধারণত যে সব কারণে আবেদন বাতিল হতে পারে:

  • পাসপোর্ট নম্বরে ভুল
  • ভুল ঠিকানা
  • অস্পষ্ট নথিপত্র আপলোড করা
  • ভুল চালানের তথ্য
আবেদন জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য পুনরায় ভালো করে চেক করে নিন।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স স্ট্যাটাসে বিলম্ব

যদি আপনার পুলিশ ক্লিয়ারেন্স স্ট্যাটাস বেশ কয়েকদিন অপরিবর্তিত থাকে:

  • আপনার কন্টাক্ট নম্বরটি সচল আছে কি না নিশ্চিত করুন
  • পুলিশের কোনো মিসড কল বা বার্তা আছে কি না চেক করুন
  • ঠিকানা ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হয়েছে কি না নিশ্চিত হন

সার্টিফিকেটে ভুল তথ্য থাকলে

যদি বানান ভুল বা তথ্যে কোনো ত্রুটি থাকে, তবে সংশোধনের জন্য অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করুন।

সাধারণ জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

বাংলাদেশ পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়া সম্পর্কে সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর।

বাংলাদেশে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পেতে কতদিন সময় লাগে?
সাধারণত ৭–১৫ কার্যদিবস লাগে।
আমি কি অনলাইনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য আবেদন করতে পারি?
হ্যাঁ, বাংলাদেশে অনলাইনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের আবেদন করার সিস্টেম চালু আছে এবং এটি ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
আমি কিভাবে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের স্ট্যাটাস চেক করতে পারি?
আপনি অফিসিয়াল ট্র্যাকিং পোর্টালে আপনার রেফারেন্স নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের স্ট্যাটাস চেক করতে পারেন।
ভিসার জন্য কি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বাধ্যতামূলক?
আবেদনকারীর কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই তা নিশ্চিত করার জন্য বেশিরভাগ দূতাবাস এটি দাবি করে।
আমার হয়ে অন্য কেউ কি আমার সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে পারবে?
হ্যাঁ, যথাযথ অনুমতিপত্র ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র থাকলে আপনার প্রতিনিধি এটি সংগ্রহ করতে পারবেন।